ভবিষ্যতে মানুষে নয়, সর্বত্র মিলবে যন্ত্রনির্ভর সেবা!

Home/ভবিষ্যতে মানুষে নয়, সর্বত্র মিলবে যন্ত্রনির্ভর সেবা!

ভবিষ্যতে মানুষে নয়, সর্বত্র মিলবে যন্ত্রনির্ভর সেবা!

২৪হেল্পলাইন.কম/এপ্রিল, ২০১৮/হাসনাত বাদশা, হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত বাংলাদেশী ছাত্র
অদুর ভবিষ্যতে মানুষ যে কাজ হারাবে ইতোমধ্যেই আমরা উন্নত দেশে বসে তার কিছু নমুনা পেতে শুরু করেছি। শিল্পক্ষেত্রে অটোমেশন এমন কোন নতুন বিষয় নয়। এমনকি দৈনন্দিন জীবনে ব্যংকের ATM বুথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা উঠানো কিংবা অটোমেটিক ভেন্ডর মেশিন থেকে ড্রিঙ্কস কেনার মত ছোটখাটো বিষয় হয়তো আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। তবে উন্নত দেশগুলোতে ইতিমধ্যেই অত্যাধুনিক অনেক কিছুর পরিবর্তন চোখে ধরা পড়ছে।
 
মাত্র ৫ মাস হলো হংকং এসে এরই মধ্যে আমার ক্যাম্পাসের ভেতরে বেস কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। যেমন নতুন ক্যান্টিনে মোবাইল এ্যাপ্স-এর মাধ্যমে খাবার অর্ডার করার মত সুবিধা, যাতে অফিস থেকে ক্যান্টিনে গিয়ে খাবার পেতে পেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের টাইম টুকুও নষ্ট না হয়। কিংবা, ক্যান্টিনে রাখা বিশাল ডিসপ্লে দেখে খাবারের মেনু (চিত্র-১) পছন্দ করার জন্য অথবা বিল মেটানোর (চিত্র-২) মত কাজে আর মানুষের দরকার হচ্ছেনা।
 
HKUST ক্যাম্পাসের ফিউশন সুপারশপে বাজার শেষে চাইলে আপনাকে আর লাইন ধরে বিলিং কাউন্টারে দাঁড়াতে হবেনা। তার কারন, বাজার শেষে নতুন ডিজিটাল কাউন্টারে আপনি চাইলে সরাসরি মেশিনেই বিল মেটাতে পারেন (চিত্র-৩)। আবার ক্যাম্পাসের ম্যাকডোনাল্ডসেও একি ব্যাবস্থা বিদ্যমান। এসবি গত দুই থেকে তিন মাসের ব্যাবধানে ঘটেছে।
 
তার চেয়ে মজার ব্যাপার হলো ‘ডিজিটাল সাইকেল’। কদিন আগে আমরা হংকং-এ অধ্যায়নরত বাংলাদেশী ছাত্ররা মিলে আনন্দ ভ্রমন সাথে BBQ Party করতে গিয়েছিলাম এক সমুদ্র সৈকতে। সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম যে, লোকজন ঘণ্টা চুক্তিতে সাইকেল ভাড়া নিচ্ছে। আমরা কয়েকজন ভাবলাম সাইকেল চালিয়ে এলাকাটাতে ঘুরতে মন্দ লাগবেনা। অনেকক্ষণ হাঁটলাম কিন্তু কোন সাইকেলের মালিকরে খুঁজে পেলাম না।পরে এক দোকানদার ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম তখন সে বলল, “ঐযে দেখছেন সাইকেলগুলা ওখানে স্ট্যান্ড করা সেগুলো আসলে ডিজিটাল সাইকেল (চিত্র-৪)। মালিক ঘরে বসে তার স্মার্টফোনে এগুলা দেখাশুনা করছেন। আপনি প্রথমে সাইকেলের পেছনে দেয়া বারকোড স্ক্যান করে একটা এ্যাপ্স ডাউনলোড করেন তারপর সেখানে একটা অনলাইন ফরম পুরন করে কত ঘণ্টা ভাড়া নিতে চান সে অনুযায়ী অনলাইনে বিল পরিশোধ করেন। তারপর দেখবেন সাইকেলের লক স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। এবার সময়মত আপনি আপনার সাইক্লিং শেষে সাইকেলটি পার্কিংলটে জমা দিয়ে চলে যেতে পারবেন।”
 
যদিও চিত্র-৫ এবং চিত্র-৬ এর বাকি জিনিসগুলো অনেকের কাছেই নতুন কিছু নয়। অনেকে ইউরোপ/আমেরিকায় সেগুলোর ব্যবহার অনেক আগে থেকেই দেখতে অভ্যস্থ। কিন্তু যাদের অমন সৌভাগ্য এখনো হয়নি তাদের জন্য শেয়ার করলাম। যেমন হংকং এর মত শহরে ৬৫০০ ডাবল ডেকার পাবলিক বাস (চিত্র-৫) আছে যেগুলো চলছে শুধুমাত্র একজন চালকের মাধ্যমে। বাসে উঠার সময় যাত্রীরা তাদের কাছে থাকা অক্টোপাস নামের ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যেমে গেইটে রাখা একটা মেশিনে টাচ করিয়ে ভাড়া মেটাচ্ছেন। আগামীদিনে সেলফ ড্রাইভিং টেনোলজি চালু হলে সে চালকেরও হয়তো আর প্রয়োজন হবেনা।
 
একইভাবে পাতাল ট্রেইনগুলোতেও (চিত্র-৬) টিকেট কাটার প্রয়োজন নেই। একি কার্ডে টাকা ভরে ইচ্ছে মত ট্রাভেল করেন কোন টিকেট মাস্টারও নেই তাই নেই কোন হয়রানি কিংবা দুর্নীতির মত বিষয়।
 
 নিচের চিত্র গুলো লক্ষ করুনঃ

চিত্র-১ঃ ক্যান্টিনে খাবারের মেনু পছন্দ করতে বিশাল ডিজিটাল ডিসপ্লে

চিত্র-২ঃ ক্যান্টিনে সম্পুর্ন মেশিন নির্ভর খাবার অর্ডার এবং বিল পেমেন্ট কাউন্টার

চিত্র-৩ঃ ডিজিটাল কাউন্টারে ক্রেতা বিল মিটাচ্ছেন, ফিউশন সুপারশপ

চিত্র-৪ঃ মালিকবিহীন ডিজিটাল সাইকেল যা কিনা ঘণ্টা চুক্তিতে চাইলে পর্যটকরা ভাড়া করতে পারেন

চিত্র-৫ঃ ডাবল ডেকার পাবলিক বাস, হংকং (৬৫০০ এমন বাস সারাদিন শহরটাকে সেবা দেয়)

চিত্র-৬ঃ পাতাল ট্রেইন, হ্যানগ হাউ এমটিয়ার স্টেশন

 
 
 
By | 2018-10-18T07:00:22+00:00 April 15th, 2018|Comments Off on ভবিষ্যতে মানুষে নয়, সর্বত্র মিলবে যন্ত্রনির্ভর সেবা!