যে ১০টি কথা বলা যাবে না ইন্টারভিউতে

Home/Career Tips/যে ১০টি কথা বলা যাবে না ইন্টারভিউতে

যে ১০টি কথা বলা যাবে না ইন্টারভিউতে

চাকরির বাজার দিনে দিনে কঠিন হয়ে পড়ছে। এখন নিয়োগ পরীক্ষায় সাক্ষাৎকার (ইন্টারভিউ) পর্যন্ত পৌঁছানোই খুব কঠিন ব্যাপার। তাই সেখানে পৌঁছে গেলে নিয়োগকর্তাদের সামনে বসে আপনি নিশ্চয়ই আচমকা কোনো বেফাঁস কথা বলে সুযোগটা নষ্ট করতে চাইবেন না।
ইন্টারভিউয়ের সময় প্রতিটি কথা অবশ্যই আপনাকে ভেবেচিন্তে বলতে হবে। কেন আপনি চাকরিটি পেতে চান, এমন প্রশ্ন করা হলে জবাবে কারও কৃপাপ্রার্থিতা নয় বরং যোগ্যতাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরুন। আপনি একটি ভালো চাকরি খুঁজছেন আর আপাতত কাজ চালানোর জন্য বর্তমান ইন্টারভিউটা দিতে এসেছেন, এমন কথা বললে কর্তৃপক্ষ আপনাকে অবশ্যই বিবেচনা করবে না।
প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আগ বাড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরাটা অপ্রয়োজনীয়। তবে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের প্রশ্ন করলে, সেটা ভিন্ন কথা। চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে বলা উচিত নয়:
১. ‘সরি, আমি দেরি করে এসেছি’
সময়ানুবর্তিতার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। দেরি করে যাওয়াটাই একটা বড় ত্রুটি, অজুহাত দেখানোটা আরও বড় ভুল। কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই চাইবে না, আপনি দেরি করে অফিসে আসবেন।

২. ‘আপনাদের বার্ষিক ছুটি ও অসুস্থ কর্মীদের জন্য নীতিমালাটা কী রকম’
প্রশ্নটা রীতিমতো অশোভন। এতে মনে হয়, নিয়োগ পাওয়ার আগেই আপনি প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার পরিকল্পনা করছেন।

৩. ‘আমি ফোনটা একটু ধরব’
অনেক চাকরিপ্রার্থীই মনে করেন, ইন্টারভিউ চলাকালে ফোনকল বা এসএমএসে সাড়া দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এটা একেবারেই অনুচিত।

৪. ‘পাঁচ বছর পর আপনি নিজেকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান’
এ প্রশ্নের জবাবে কখনোই বলবেন না, ‘আপনাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায়।’ কারণ, উত্তরটা ঠিক মনে হলেও এতে আপনার উচ্চাকাঙ্ক্ষার ঘাটতি প্রকাশ পায়।

৫. ‘আমি আগে যেখানে চাকরি করতাম, সেই প্রতিষ্ঠানটা জঘন্য’
এ ধরনের মন্তব্য শুধু যে অপেশাদারই তা নয়, বরং আপনার চারিত্রিক সংকীর্ণতারও প্রকাশ। নতুন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান আপনাকে নিয়োগ দেওয়ার আগে আপনার আগের কর্মস্থলে যোগাযোগ করতে পারে। কাজেই নিজের সম্ভাবনাটা নষ্ট করবেন না।

৬. ‘প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ নয়’
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে এমন কোনো মন্তব্য করবেন না, যাতে সে সম্পর্কে আপনার পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ পায়। খোঁজখবর নিয়েই যেকোনো ইন্টারভিউতে যাওয়া উচিত। কর্তৃপক্ষ সে রকমই আশা করে। তাই বলতে পারেন, ‘আপনাদের ওয়েবসাইটটি একনজরে দেখেছি।’

৭. প্রশ্নকর্তার ওপর বিরক্তি নয়
রেগে গিয়ে প্রশ্নকর্তার ওপর রাগ করে বসবেন না। তাঁরা আপনার মানসিক দৃঢ়তা যাচাইয়ের জন্য কখনো কখনো আপনাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করতে পারেন। এসব পরিস্থিতিতে আপনার ধৈর্য, ভদ্রতা ও পেশাদারি আচরণ প্রত্যাশা করা হয়।

৮. পূর্ব ধারণা ঠিক নয়
নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আপনার সম্পর্কে আগে থেকেই জানে বা জীবনবৃত্তান্তে লিখে দিয়েছেন, এমন ভেবে নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কিছু বলবেন না; বরং যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি ও ভুল-বোঝাবুঝি এড়িয়ে স্পষ্ট ও নির্ভুলভাবে নিজের সম্পর্কে বলুন।

৯. আপনাদের প্রতিষ্ঠানের পোশাকটি (ইউনিফর্ম) কি আমাকে পরতেই হবে’
ইন্টারভিউতে এ ধরনের প্রশ্ন অবান্তর। কারণ, ইউনিফর্মের বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত।

১০. ‘এখানে সুযোগ পেলে চাকরির কোন দিকটা আপনার সবচেয়ে ভালো লাগবে’
এমন প্রশ্নের জবাবে কখনোই বলবেন না: বেতন, মধ্যাহ্নবিরতি, সহকর্মীদের সঙ্গ অথবা ছুটির দিনগুলো। কারণ, কর্তৃপক্ষ আপনার কাছ থেকে আরও বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর আশা করে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

By | 2018-04-26T16:00:39+00:00 March 18th, 2018|Career Tips|0 Comments

Leave A Comment