ইন্টারভিউতে এই ১৫টি প্রশ্ন থেকে নিয়োগদাতারা আসলে যা জানতে চান

Home/Career Tips/ইন্টারভিউতে এই ১৫টি প্রশ্ন থেকে নিয়োগদাতারা আসলে যা জানতে চান
See this post 67 views

ইন্টারভিউতে এই ১৫টি প্রশ্ন থেকে নিয়োগদাতারা আসলে যা জানতে চান

চাকরির ইন্টারভিউতে নিয়োগদাতারা ঘুরেফিরে সাধারণত ১৫টি প্রশ্নই করেন। আর এই ১৫টি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেই যে কেউ সহজেই যেকোনো চাকরির ইন্টারভিউতে পাস করে যেতে পারবেন। তবে এও সত্যি যে, চাকরির ইন্টারভিউতে আপনি হয়তো শত শত প্রশ্নের ‍মুখোমুখি হতে পারেন। কিন্তু মূলত ১৫টি মূল প্রশ্নের ধারণাকে ঘিরেই ওই শত শত প্রশ্নের সৃষ্টি।
এই মৌলিক ১৫টি প্রশ্ন হলো :
১. নিজের সম্পর্কে বলুন
এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে মূলত জানতে চাওয়া হয়- আপনি নিজের সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করেন? আর আপনি কি জানেন নিজের সম্পর্কে বলার সময় কী রাখতে হবে আর কী ফেলে দিতে হবে?
এই ধরনের কাছাখোলা প্রশ্নের আসলে নির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। এই প্রশ্নের উত্তরে কী বলতে হবে এবং কখন থামতে হবে তা ‍উত্তরদাতাকেই পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
২. এই চাকরির জন্য আপনি কেন আবেদন করেছেন?
এই প্রশ্নের আড়ালের প্রকৃত প্রশ্ন হলো- যা করার জন্য আপনাকে আমাদের প্রয়োজন আপনি তার কী করতে পারেন? বা আপনি কি আদৌ জানেন কী করার জন্য আপনাকে আমাদের প্রয়োজন?
এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নিয়োগদাতারা মূলত যা জানতে চান তা হলো- ‘আমি এই চাকরির জন্য আবেদন করেছি কারণ আমার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং প্রেরণা সব এই চাকরির জন্যই সবচেয়ে বেশি উপযোগী।’
এই প্রশ্নের উত্তরের প্রতিটি লাইনেই আবেদনকৃত চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় বৈশিষ্টের প্রতিফলন ঘটান। আর নিজের প্রয়োজনগুলো উল্লেখ করার আগে নিয়োগদাতাদের প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা করুন।
৩. আপনার সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাগুলো কী?
এই প্রশ্নের মানে হলো- আপনি সত্যিই নিজেকে চেনেন কিনা? আর আমাদের এখানকার সমস্যাটা কী তা কি আপনি জানেন?
এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় চাকরির দায়-দায়িত্বের বিবরণটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। এ ছাড়া বিশেষণ ব্যবহারে হালকা চালে এগোতে হবে আর মৌলিক তথ্য প্রদানের সময় ভারিক্কি বজায় রাখতে হবে।
৪. আপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলো কী?
প্রকৃত প্রশ্ন : আমি আপনার সম্পর্কে ইতিমধ্যেই যা ভাবছি তা কি ঠিক? আর আপনি কি আগের সবার মতো একই ধরনের চাতুর্যপূর্ণ ও খোঁড়া উত্তরটিই দিতে যাচ্ছেন, নাকি আপনি আমার সঙ্গে পাল্লা দিতে যাচ্ছেন?
আর যাই করুন এই প্রশ্নের কোনো গতানুগতিক উত্তর দিতে যাবেন না যেন। কারণ এমনও হতে পারে এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নিয়োগদাতা মূলত আপনার সম্পর্কে পূর্ব অনুমানকৃত দুর্বলতাগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছেন। নতুন কোনো দুর্বলতার সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইছেন না।
৫. আপনার দক্ষতা ও ধারণা এই কম্পানির কী কাজে লাগতে পারে?
প্রকৃত প্রশ্ন : আমাদের কাছে বেচার মতো আপনার কী আছে?
প্রশ্নটি শুনে এই ভেবে ঘাবড়ে যাবেন না যে, আপনাকে নিয়োগ না দিয়েই হয়তো তারা আপনার ধারণাগুলো চুরি করবে। তবে এমনটি ঘটাও অসম্ভব নয়। আর এটাই জীবন। এ ক্ষেত্রে আপনি উদারতা বা কৃপণতা যেকোনো একটি প্রদর্শন করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন কৃপণকে কেউই পছন্দ করে না।
৬. ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আপনার পছন্দের ধরন কোনটি?
প্রকৃত প্রশ্ন : আপনার সঙ্গে আমাদের মেলবন্ধন হবে কী-না?
এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নিয়োগদাতারা মূলত বুঝতে চান, আপনি নিজ দায়িত্বে কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম কিনা। আর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে যে পদবির উঁচুনিচু ভেদাভেদ আছে সে বিষয়টিও আপনি মেনে নিতে পারেন কিনা।
৭. আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
প্রকৃত প্রশ্ন : আপনি কি শুধু এই চাকরিটিই পেতে চাইছেন নাকি যেকোনো চাকরি হলেই আপনার চলবে? আগামী কতদিনের মধ্যে আপনার জন্য নতুন কোনো চ্যালেঞ্জের দরকার হবে? আর আমরা আপনাকে কী প্রস্তাব দিতে পারি সে ব্যাপারে আপনার কোনো বাস্তব ধারণা আছে কিনা?
আপনি যদি সত্যিই বুঝতে না পারেন আগামী পাঁচ বছরে আপনি ঠিক কোথায় পৌঁছাতে পারবেন তাহলে সেটি খোলাখুলি বলে দেওয়াই ভালো।
আর আপনি এই কম্পানিতেও সফল হবেন তা বলার আগে এ পর্যন্ত আপনার সফলতাগুলো সম্পর্কে প্রশ্নকর্তাকে বিস্তারিতভাবে জানানোর চেষ্টা করুন।
৮. এই চাকরি সম্পর্কে আপনার মনোভঙ্গি কী?
প্রকৃত প্রশ্ন : আপনি আমাদের সম্পর্কে আসলে কতটা জানেন? আমাদের যা প্রয়োজন সে ব্যাপারে আপনি কতটুকু কী করতে পারবেন? আপনার পছন্দনীয় কাজের ধরনটা কী?
এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের পরিকল্পনার ব্যাপারে কথা বলার আগে কূটনীতি নিয়ে কথা বলুন। আর সতর্ক থাকুন। এই প্রশ্ন আপনাকে নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সম্পর্কে বলার একটা সুযোগও করে দিতে পারে, যা হয়তো বর্তমান চাকরিতে আপনার ভূমিকার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। তবে কোনো কম্পানিতে কাজ শুরু করার আগেই সে কম্পানিটি কীভাবে চলে তা আপনি নাও বুঝতে পারেন। সুতরাং নির্বিচার কোনো মন্তব্য করে ফেঁসে যাবেন না যেন।
৯. অন্যত্র আপনি কী অর্জন করেছেন?
প্রকৃত প্রশ্ন : আপনার কাছ থেকে সবচেয়ে ভালো কোন জিনিসটা আমরা পেতে পারি? আপনার সেই অর্জনটাই কি আমাদের দরকার?
সুসংবাদ! এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে মূলত এবার আপনি নিজের ঢোলটি পেটানোর সুযোগ পেয়ে গেলেন। এর উত্তরে প্রধানত কর্মক্ষেত্রসংশ্লিষ্ট নিজের সাম্প্রতিক অর্জনগুলোর ওপর জোর দিয়ে আলোকপাত করুন। এ সময় আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন করুন- যা নিয়োগদাতারাও আপনার কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন।
১০. আগের চাকরির কী কী আপনি পছন্দ বা অপছন্দ করতেন?
প্রকৃত প্রশ্ন : আপনি আমাদের কাছে এমন কী চান যা আপনার আগের চাকরি আপনাকে দিতে পারেনি? আমরা আপনাকে সেটা দিতে সক্ষম বলে মনে করেন কি?
এ প্রশ্নের উত্তরে কোনো রাগ দেখাবেন না। অথবা আপনার বর্তমান বা আগের নিয়োগদাতাকে দোষারোপ করবেন না। আপনি বরং এই প্রশ্নটিকে আগের চাকরির যেসব বিষয় আপনি সত্যিই পছন্দ করতেন না সেসব বিষয় তুলে ধরার একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন। তবে আপনার অভিযোগের পক্ষে সুদৃঢ় যুক্তি ও কর্মনীতি পরায়ণতা প্রদর্শন করুন। কর্মনীতির ব্যাপারে আপসহীনতা আপনাকে যেকোনো জটিল পরিস্থিতি উতরে যেতে সহযোগিতা করবে।
১১. দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞাতা সম্পর্কে বলুন…..
প্রকৃত প্রশ্ন : কেউই একা একা কোনো কিছু অর্জন করতে পারে না- আর আপনিও সেটা জানেন, ঠিক?
এই প্রশ্নের উত্তরের মধ্য দিয়ে মূলত সহকর্মীদের সঙ্গে আপনার দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার সামর্থ্য সম্পর্কে মূল্যায়নের চেষ্টা করা হবে। সূতরাং এর উত্তরে সাম্প্রতিক সময়ে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার কোনো সাফল্য সম্পর্কে জানান দিন।
১২. সহকর্মীরা আপনার সম্পর্কে কী বলে?
প্রকৃত প্রশ্ন : এই প্রশ্ন শুনে আপনি স্থির আছেন না উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন? আপনি কি আত্মসচেতন নাকি শুধু আত্মচেতনাধারী?
যাদেরকে আগে থেকেই তাদের নিজেদের প্রতিভা ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সত্য ও প্রকৃত ধারণা দেওয়া হয়নি তারা এই ধরনের প্রশ্ন শুনে ঘাবড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। এই প্রশ্নের উত্তরে কোনো বিশেষণমূলক বিবৃতি নয় বরং বাস্তব সাক্ষ্য-প্রমাণ সরবরাহ করুন।
১৩. মানসিক চাপ ও ব্যর্থতা সামলান কী করে?
প্রকৃত প্রশ্ন : চাপ বাড়তে থাকলে কি আপনি দানবীয় রুপ ধারণ করবেন, একটি অপদার্থে পরিণত হবেন, নাকি সাফল্যের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে নজির স্থাপন করবেন?
প্রতিটি কাজেই কমবেশি মানসিক চাপ রয়েছে। সূতরাং একেবারেই মানসিক চাপমুক্ত কোনো জগতে বাস করছেন বলে ভান করবেন না। এর আগে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনি কী করেছেন তার বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলুন।
১৪. আপনার কত টাকা প্রয়োজন?
প্রকৃত প্রশ্ন : আপনার চাহিদা কি আমরা পূরণ করতে পারব? আপনি কি টাকার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে চাকরির সিদ্ধান্ত নেন?
এই প্রশ্নটি সব সময়ই একটু কঠিন। ইন্টারভিউতে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করাই উত্তম। আর পরবর্তী চাকরির ইন্টারভিউতে যাওয়ার আগে এই ধরনের প্রশ্ন মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে হবে।
১৫. আপনার সৃজনশীলতা দেখান
প্রকৃত প্রশ্ন : এখানে গোপন করার কিছুই নেই- আপনি কি সৃজনশীল?
যদিও সরাসরি কখনো এত শব্দ ব্যয় করে আপনাকে এই প্রশ্নটি করা হবে না। তথাপি আপনাকে অবশ্যই এমন কোনো প্রশ্ন করা হতে পারে যার অন্তর্নিহিত লক্ষ্য থাকবে আপনার সৃজনশীলতা পরখ করে দেখা।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

By | 2018-04-26T15:58:35+00:00 March 18th, 2018|Career Tips|3 Comments

3 Comments

  1. alljobspo Zambia March 1, 2019 at 9:00 am

    I regard something genuinely interesting about your web blog so I bookmarked .

  2. secretary work March 1, 2019 at 9:29 am

    Simply wanna state that this is handy , Thanks for taking your time to write this.

  3. Gregorygef March 1, 2019 at 9:30 pm

    demi lovato doing drugs eye doctor that takes medicaid herpes medication no prescription

Leave A Comment